বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন
পিরোজপুর প্রতিনিধি;
পারিবারিক কলহের জেরে পিরোজপুর সদর উপজেলার টোনা ইউনিয়নের চর লখাকাঠী এলাকায় এক গৃহবধূর নানাবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পিরোজপুর সদর উপজেলার ওদনকাঠী গ্রামের বাসিন্দা ওয়ারেছ হাওলাদারের ছেলে ফারদিন হাওলাদারের সঙ্গে তার স্ত্রী জেনীর দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ওই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। স্বামীর নির্যাতনের মুখে জেনী তার নানাবাড়ি চর লখাকাঠী এলাকায় আশ্রয় নেন।
জেনীর নানা আ. সালাম হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, “আমার নাতনি নির্যাতনের শিকার হয়ে আমার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তার স্বামী ফারদিন হাওলাদার আমাদের বাড়িতে এসে গালিগালাজ শুরু করে এবং একপর্যায়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর চালায়।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্ত ফারদিন হাওলাদার বাড়িতে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে তিনি ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে বাড়িতে অবস্থানরত জেনীর বড় মামি গুরুতর আহত হন। আহত নারীকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর জেনীর নানাবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানান তারা।
ঘটনার পর অভিযুক্ত ফারদিন হাওলাদার এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় জেনী বাদী হয়ে পিরোজপুর সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহামুদ হোসেন বলেন, “আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তবে অভিযুক্ত ফারদিন হাওলাদারের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।